কম্পিউটারের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে প্রসেসর। কম্পিউটারে কাজের গতি প্রসেসরের উপর নির্ভর করে অনেকাংশে। আর এই চিপ তৈরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ইন্টেল। এই চিপ জায়ান্ট কোঃ কম্পিউটারের জন্য ‘হ্যাসওয়েল’ নামের নতুন প্রজন্মের প্রসেসর বাজারে আনছে। নতুন কম্পিউটার চিপ হ্যাসওয়েলের ব্যাপারে বি¯Íারিত জানালো ইন্টেল। সান ফ্রান্সিসকোতে অনুষ্ঠিত ইন্টেল ডেভেলপার ফোরাম নামের বার্ষিক এক অনুষ্ঠানে হালকা-পাতলা ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট দেখিয়েছে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইন্টেল। এই অনুষ্ঠানে এ ধরনের পণ্যের উপযোগী ‘হ্যাসওয়েল’ নামের প্রসেসরের দুটি সংস্করণের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ প্রসঙ্গে ইনটেলের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হ্যাসওয়েল প্রসেসর বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। বিদ্যুৎ খরচ সাশ্রয়ের কথা মাথায় রেখেই হ্যাসওয়েল বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এই চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। ইনটেলের বর্তমান আইভিব্রিজ প্রসেসরের চেয়েও অর্ধেক বিদ্যুৎ খরচ করবে এই নতুন প্রসেসরটি। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এ প্রসেসর আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে বাজারে আসবে বলে আসা করা হচ্ছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, বিদ্যুৎসাশ্রয়ী প্রসেসর হিসেবে হ্যাসওয়েল কম্পিউটিংয়ের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রাফিক্সের মানও উন্নত করবে। ইনটেল জানিয়েছে, হ্যাসওয়েল প্রসেসরের একটি ভার্সন চলবে মাত্র ১০ ওয়াটে। এই প্রসেসর বিদ্যুতের খরচ ১৭ ওয়াট থেকে ১০ ওয়াটে নামিয়ে আনবে, যা বর্তমান আইভি ব্রিজ ডিজাইনের তুলনায় অর্ধেক। হ্যাসওয়েলের একটি সংস্করণ ১৫ ওয়াট ও আরেকটি মাত্র ১০ ওয়াট বিদ্যুতে চলবে। হ্যাসওয়েল চিপ ব্যবহার করে তৈরি ডিভাইসগুলো হবে আরো পাতলা, হালকা, দ্রæতগতির। এ প্রসেসর দ্বারা চালিত ল্যাপটপের ব্যাটারির চার্জও থাকবে অন্যান্য ল্যাপটপের থেকে লম্বা সময় ধরে। ভয়েস রিকগনিশন, ফেসিয়াল অ্যানালিসিস এবং ডেপথ ট্র্যাকিংয়ের কথাও মাথায় রেখে ডিজাইন করা হয়েছে হ্যাসওয়েল। প্রযুক্তি বিশেøষকেরা জানিয়েছেন, বর্তমানে কম্পিউটারের চাহিদা দিন দিন কমে যাচ্ছে। তবে নতুন প্রজন্মের ইনটেলের নতুন এই প্রসেসর কম্পিউটার বাজারকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করতে পারে। ইনটেলের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উইন্ডোজ নির্ভর ল্যাপটপ, আলট্রাবুক ও ট্যাবলেটের কথা মাথায় রেখে নতুন প্রসেসরের নকশা করা হয়েছে। এই প্রসেসরে গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ) উন্নত করা হয়েছে। এ ছাড়া সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট (সিপিইউ) ও প্লাটফর্ম কন্ট্রোলার হাব (পিসিএইচ) একসঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, ফলে কম্পিউটারে দ্রæতগতির তথ্য প্রসেস করার পাশাপাশি ইউএসবি, অডিও ও তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থাও উন্নত হবে। হ্যাসওয়েল প্রসেসর নির্ভর কম্পিউটার কণ্ঠস্বর শনাক্তকারী প্রযুক্তি, জেশ্চার বা অঙ্গভঙ্গি শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মতো নতুন প্রযুক্তিও সমর্থন করবে। মোবাইল কম্পিউটিং চিপের বাজারে ইনটেলের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দি হল এআরএম। তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য বেশ সুনাম রয়েছে এআরএমের চিপগুলোর। উইন্ডোজ ৮ অপারেটিং সিস্টেম চালাতে সক্ষম এবং একইসঙ্গে তুলনামূলক কম বিদ্যুৎশক্তি খরচ করে এমন কম্পিউটার চিপ দিয়েই এআরএমের সঙ্গে টক্কর দেয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ইন্টেল। ইন্টেলের প্রোডাক্ট মার্কেটিং ডিরেক্টর অ্যাডাম কিং এ ব্যাপারে উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘এখনকার নোটবুকগুলোর ব্যাটারি লাইফ ৫ ঘণ্টা হলেও ২০১৩ সালে যে নতুন নোটবুকগুলো বাজারে আসবে, সেগুলোর ব্যাটারি লাইফ হবে ৯ ঘণ্টা’। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত কনজিউমার ইলেকট্রনিক শোতে (সিইএস) এক সংবাদ সম্মেলনে ইনটেলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মুলি ইডেন জানিয়েছিলেন, আলট্রাবুক নামের হালকা-পাতলা মডেলের ল্যাপটপগুলোর ক্ষমতা বাড়াতে ইনটেল আইভিব্রিজ ও হ্যাসওয়েল প্রসেসর নিয়ে কাজ করছে। ২০১২ সালে ইনটেলের চিপযুক্ত ৭৫টি মডেলের ল্যাপটপ বাজারে ছাড়া হতে পারে। আলট্রাবুকের দাম কমিয়ে আনার জন্য চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছে ইনটেল।
ইসমত আরা বেগম





